August 28, 2026, 2:50 am

নবায়ন ফি না দেয়ায় ৩২ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ

নবায়ন ফি না দেয়ায় ৩২ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নবায়ন ফি না দেয়ায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৩২ হাজার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।লেট ফি দিয়েও এসব অ্যাকাউন্ট আর চালু করা যাবে না।

বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের পাঠানো তালিকার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয় ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে শেয়ার সংরক্ষণকারী কোম্পানি সিডিবিএল (সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড)। প্রতিবছর নবায়নের শেষ সময় ৩০ জুন থাকলেও বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের কারণে এই সময় তিনমাস বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।

সিডিবিএলের তথ্য মতে, পহেলা সেপ্টেম্বর বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্ট ছিলো ২৩ লাখ ১৮ হাজার ২৭৪টি। সেখান থেকে ৩১ হাজার ৯২০টি বিও হিসাব কমে দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৮৬ হাজার ৩৫৪টি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারের অবস্থা আরো খারাপ হলে বিও হিসাব বন্ধের পরিমাণ আরো বাড়তো। নতুন কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন, পানির দামে থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বেশ কিছু উদ্যোগের ফলে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে পুঁজিবাজার। আর তাতে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বাজারে ঝুঁকছেন। তা না হলে বিগত বছরগুলোর মতই ১ লাখ কিংবা তার চেয়ে কম বেশি বিও হিসাব বন্ধ হতো।

সিডিবিএলের তথ্য মতে, পহেলা সেপ্টেম্বর বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিলো ২৩ লাখ ১৮ হাজার ২৭৪টিতে। গত এক মাসে সে খান থেকে বিও হিসাব কমে দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৮৬ হাজার ৩৫৪ টি। এর মধ্যে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের বিওর সংখ্যা১৬ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৬টি। আর নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ৫লাখ ৯৩ হাজার ১০৯ টি। এছাড়া কোম্পানিটির ১৩ হাজার ৩৮৯টি।

সূত্র জানায়, বর্তমানে বিও অ্যাকাউন্ট নবায়ন করতে ৫০০ টাকা লাগে। এর মধ্যে সিডিবিএল ১৫০ টাকা, হিসাব পরিচালনাকারী ব্রোকারেজ হাউস ১০০ টাকা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশন (বিএসইসি) ৫০ টাকা এবং বিএসইসির মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ২০০ টাকা জমা হয়।

জানা গেছে, প্রতি বছর ৩০ জুনের মধ্যে এই ফি সিডিবিএলে জমা দিতে হয়। এ বছর ব্রোকারেজ হাউসগুলো বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের সক্রিয়তা বিবেচনা করে বছরের বিভিন্ন সময়ে অ্যাকাউন্ট বাতিল করে। আর নবায়ন দিতে ব্যর্থ হওয়ায় জুনে বেশির ভাগ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ডিপোজিটরি (ব্যবহারিক) প্রবিধানমালা, ২০০৩ এর তফসিল-৪ অনুযায়ী, বিও হিসাব পরিচালনার জন্য ডিপজিটরি অংশগ্রহণকারী বা বিনিয়োগকারীকে নির্ধারিত হারে বার্ষিক হিসাব রক্ষণ ফি দিয়ে হিসাব নবায়ন করতে হয়। এর আগে পঞ্জিকাবর্ষ হিসেবে প্রতি বছর ডিসেম্বরে এই ফি জমা নেয়া হতো।

তবে ২০১০ সালের জুন মাসে বিএসইসি বিও হিসাব নবায়নের সময় পরিবর্তন করে বার্ষিক ফি দেয়ার সময় জুন মাস নির্ধারণ করে। এ সময় বিও নবায়ন ফি ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়। এরপর বিএসইসির জারি করা ২০১১ সালের ১৮ এপ্রিল এক সার্কুলারে ৩০ জুনের মধ্যে বিও অ্যাকাউন্ট নবায়নের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। না হলে অ্যাকাউন্ট বাতিল করা হবে বলে ওই সার্কুলারে বলা হয়েছিল।

সূত্র জানায়, আগে পুঁজিবাজারে আইপিও আবেদনের জন্য নামে-বেনামে প্রচুর বিও অ্যাকাউন্ট খোলা হতো। একই ব্যক্তি এক থেকে দেড়শ’ পর্যন্ত বিও অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে। আর এসব বিওতে শুধু আইপিও আবেদন করা হয়। ২০০৯ সালের জুন পর্যন্ত বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ।

কিন্তু ২০১০ সাল শেষে তা ৩৩ লাখ ছাড়িয়ে যায়। আর এই প্রবণতা রোধে বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়। এ ছাড়াও বিও অ্যাকাউন্টে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সার্টিফিকেট দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অ্যাকাউন্টের স্বচ্ছতা আনতে গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) ফরম পূরণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছিল। কিন্তু বাজার সংশ্লিষ্টদের চাপে শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার।

বিজনেস নিউজ/এমআর

 

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com